অভিধানে কোনো শব্দ থাকলে কেবল অভিধানে থাকার জন্য তা কি শুদ্ধ হয়ে যাবে? এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে একটু ভেবে নিতে হবে। দোকানে বা গুদামে কোনো পণ্য মজুদ থাকলে তা কেবল মজুদ রাখার জনই কি উপকারী, ভালো বা আইনগত পণ্য বিবেচিত হবে?অনেকে মনে করেন, অভিধানে কোনো একটি শব্দের যে কয়টি বিকল্প বানান থাকে সবগুলো শুদ্ধ। এ ধারণা ঠিক নয়। যে সব শব্দ অতীতে ব্যবহৃত হতো কিন্তু এখন হচ্ছে না, বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে তবে শুদ্ধ নয় এবং শুদ্ধ- সবগুলো অভিধানে দেওয়া হয়। অভিধান ব্যাকরণ নয়, প্রমিত রীতিও নয়। যাঁরা অভিধান রচনা করেন তাঁরা বৈয়াকরণ হিসাবে অভিধান রচনা করেন না, আভিধানিক হিসাবে অভিধান রচনা করেন। যে সব শব্দ প্রচলিত ছিল বা আছে সবগুলো অভিধানে না দিলে বিভিন্ন বানানে লেখা শব্দের অর্থ-উদ্ধারে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই কোনো শব্দের যতগুলো বানান প্রচলিত ছিল বা আছে তা শুদ্ধাশুদ্ধ বিবেচনা ব্যতিরেকে অভিধানে উল্লেখ করা হয়। মূলত এটাই আভিধানিকের কাজ। মানুষ সাধারণত শব্দের অর্থ জানার অভিপ্রায়ে অভিধান দেখেন, ব্যাকরণ জানতে নয়। যিনি বৈয়াকরণ তিনি অভিধানকার হলে শব্দভুক্তি ও ভুক্তশব্দের ব্যাখ্যায় কিছু ব্যাকরণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অভিধান কখনও ব্যাকরণ হতে পারে না। অভিধানে ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ প্রবল হয়ে উঠলে তা আর অভিধান থাকে না, ব্যাকরণ হয়ে যায়।
একটি দোকানে ব্যক্তি বিশেষের চাহিদা অনুযায়ী সব পণ্যের মজুদ বা সংগ্রহ থাকবে বা পাওয়া যাবে এটি ভাবা ঠিক নয়। তেমনি কোনো অভিধানে কাক্সিক্ষত সব শব্দ পাওয়া যাবে এমন প্রত্যাশা করাও উচিত নয়। কোনো দোকানে একটি পণ্য পাওয়া না-গেলে ক্রেতা যেমন বিভিন্ন দোকানে খোঁজ করেন, তেমনি পাঠকেরও উচিত একটি অভিধানে প্রত্যাশিত শব্দটি না-পেলে অন্য কোনো অভিধান দেখা। কোনো অভিধানেই যদি ইপ্সিত শব্দটি না-পাওয়া যায় তা হলেও শব্দটি নেই, বা আছে কিংবা ভুল এ বিষয়ে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসা আদৌ উচিত হবে না। কারণ সমৃদ্ধ ভাষাসমূহে শব্দের ভা-ার এত ব্যাপক যে, তা সম্পূর্ণভাবে গ্রন্থভুক্ত করা রীতিমতো কষ্টসাধ্য। বাংলাও তেমন একটি সমৃদ্ধ ভাষা এ পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিধানে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সবগুলো শব্দ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এমন উদ্যোগ কয়েক বার নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা সফল হতে পারেনি। পৃথিবীর কোনো ভাষার জন্য তা সম্ভব নয়।
ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পণ্যসজ্জিত করা দোকানির কাজ। পণ্যের ভালোমন্দ বিবেচনার চেয়ে ক্রেতার চাহিদাই দোকানির কাছে মুখ্য। ক্রেতার স্বাস্থ্যের উন্নতি-অবনতির দিকে নজর দেওয়া দোকানির কাজ নয়। এ কাজের জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। নকল পণ্য, সিগারেট বা মদ্য, পচা-বাসি খাবার প্রভৃতি স্বাস্থ্যহানিকর, তবু তা বিক্রির উদ্দেশ্যে দোকানে রাখা হয় এবং বিক্রিও হয়। দোকানি যদি ক্রেতার স্বাস্থ্য বিবেচনায় রত হন তাহলে ব্যবসা লাটে উঠবে। অভিধানও ঠিক দোকানের মতো। অভিধানকে শব্দের গুদামও বলা যেতে পারে। গুদামে রাখা সব পণ্য মানসম্মত ও ভালো কিংবা স্বাস্থ্যকর তা বলা যাবে না। গুদামে ভালো, মন্দ, আংশিক ভালো, আংশিক মন্দ- সব রকমের পণ্য রাখা হয়। তাই গুদামে রাখা সব পণ্য মানসম্মত- এমনটি ভাবা যেমন সমীচীন নয় তেমনি সমীচীন নয় অভিধানে অন্তর্ভুক্ত সব শব্দকে শব্দ শুদ্ধ ভাবা। শব্দের শুদ্ধাশুদ্ধ বিবেচনার জন্য রয়েছে ব্যাকরণ বা ভাষা-বিধি। কোনো শব্দ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ব্যাকরণ রীতি অনুসরণ না করলে তা অভিধানে যতই সংরক্ষণ করা হোক না কেন, সেটি শুদ্ধ বলে গণ্য হয় না। অভিধানকারেরা প্রচলন দেখে শব্দ ভুক্তি করেন কিন্তু বৈয়াকরণগণ দেখেন শব্দ ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ কিনা। দু জনের দুই কাজ।
শুদ্ধাশুদ্ধ বিবেচনা না করে বর্তমানে প্রচলিত ও অতীতে প্রচলিত ছিল এমন সব শব্দের বানান অভিধানে রাখা অভিধান রচয়িতাগণের কর্তব্য। তাঁদের দায়িত্ব কেবল প্রচলিত শব্দের অর্থ উপস্থাপন, শুদ্ধ-অশুদ্ধ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া নয়। কোনো অভিধানে শব্দের শুদ্ধ-অশুদ্ধ সম্পর্কে ধারণা থাকলেও তা ব্যাকরণ রীতির আলোকে দেওয়া হয়। পাঠকের দায়িত্ব হচ্ছে বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রমিত রীতি অনুসরণ করে তা গ্রহণ বর্জন ও ব্যবহার। অনেক অভিধানকারকে দোকানের পণ্যের মতো নিজের পছন্দনীয় শব্দের অনুকূলে ব্যাখ্যা প্রদান করতে দেখা যায়। অবশ্য কবি-সাহিত্যিক, বৈয়াকরণ প্রমুখরাও এমন করেন। রবীন্দ্রনাথ, সুনীতিকুমার, শরৎচন্দ্র, চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য, আবদুল ওদুদ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী, বিজনবিহারী থেকে শুরু করে অধুনা ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মাহবুবুল হক প্রমুখও কিছু কিছু শব্দে নিজস্ব বানান রীতিতে দুর্বল। সুতরাং, অভিধানে ‘কোনো শব্দের যতগুলো বানান উল্লেখ আছে সবকটি প্রমিত রীতি অনুযায়ী শুদ্ধ’ এমন ভাবা বিধেয় নয়। একই শব্দের একাধিক বানান উল্লেখের ক্ষেত্রে অভিধানে সাধারণত যে শব্দটি শুদ্ধ, প্রচলিত ও প্রমিত-রীতি অনুসরণ করে সেটি প্রথমে লেখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সংক্ষেপে শব্দসমূহের অবস্থানগত বিবরণও দেওয়া হয়। তবু কোন্ বানানটি শুদ্ধ তা অভিধানে উল্লেখ না থাকলে জানার জন্য প্রমিত রীতি সম্পর্কে অবগত হওয়া সমীচীন।
কোনো বিষয়, রীতি বা কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে যতই জনপ্রিয় বা গ্রহণযোগ্য হোক না কেন, সরকারি নীতির সাথে সাংঘর্ষিক হলে বা সরকারি নীতি অনুসরণ না করলে তা বেআইনি বলে বিবেচিত হয়। অবশ্য সরকার ইচ্ছে করলে জন-চাহিদার স্বার্থে এর আইনানুগ স্বীকৃতি দিতে পারে। এভাবে আইন পরিবর্তন হয়, নতুন রীতির প্রবর্তন ঘটে। তেমনি কোনো শব্দ শুধু ব্যাপক প্রচলনের কারণে যে শুদ্ধ হয়ে যাবে সেটি ঠিক নয়। ব্যাকরণ বিধি অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে অথবা বৈয়াকরণ বা ব্যাকরণ নিয়ন্ত্রণকারী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা শব্দটির স্বীকৃতি না এলে তা অশুদ্ধই থেকে যাবে। এ ক্ষেত্রে বৈয়াকরণ বা ব্যাকরণ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে সার্বিক বিবেচনায় বহুল প্রচলিত শব্দটির বিষয়ে তাঁদের অবস্থান দ্রুত স্পষ্ট করা। অন্যথায় তাঁরা অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন -এমনটি ভাবা যাবে না। বাংলা ভাষায় এমনই দেখা যাচ্ছে। বহুল প্রচলিত কিন্তু অনেক অশুদ্ধ শব্দ সম্পর্কে বৈয়াকরণগণের প্রয়োজনীয় সচেতনতা ও নির্দেশনা লক্ষ করা যায় না।
অনেকে জটিলতার দোহাই দিয়ে ইচ্ছেমতো বানান পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে থাকেন। অনেকে এর বিরোধিতা করেন। ভাষা বহমান নদীর মতো। তাই ভাষার স্বাভাবিক প্রবাহে কোনো পক্ষের প্রতিবন্ধকতা বা বল-প্রয়োগ মঙ্গলজনক হতে পারে না। প্রেমিক বা প্রেমিকার উদ্দেশ্য এবং ধর্ষণকারীর উদ্দেশ্য অনেকটা অভিন্ন হলেও উত্তরণ-পথ, প্রায়োগিক দর্শন এবং ভবিষ্য-পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভাষাকে প্রেম দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে সাবলীল কলহাস্যে অভিষিক্ত করে বরণ করার আবহ সৃষ্টি করলে তা সার্বজনীন হয়ে উঠতে বাধ্য। কেউ যদি মাতৃভাষার প্রচলিত রীতি-নীতি আত্মস্থ করাকে কষ্টকর গণ্যে নিজের ইচ্ছেমতো পাল্টে দিতে চেষ্টা করেন সেটি ধর্ষণের মতোই বিব্রতকার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। প্রেমিক বা প্রেমিকাকে নিজের প্রতি প্রেমমুগ্ধ করতে না পারার কারণে তাকে জোরপূর্বেক নিজের বাহুডোরে আনার চেষ্টা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ভাষাকে শুধু আত্মস্থ করতে না পারার কারণে জটিলতার দোহাই দিয়ে ব্যাকরণের রীতিনীতি অগ্রাহ্যপূর্বক তা বদলিয়ে ফেলার চেষ্টা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। পৃথিবীর আর কোনো ভাষায় এমনটি দেখা যায় না। ইংরেজি, রুশ, ফ্রান্স প্রভৃতিসহ পৃথিবীর অনেক ভাষা বাংলার চেয়ে অনেক জটিল, তারা তো কখনও জটিলতার দোহাই দিয়ে ভাষার নিয়ে সে¦চ্ছাচার করেন না! তাহলে আমরা কেন করব? যে ভাষার জন্য একসময় বাঙালি জাতি রক্ত দিয়েছেন সে ভাষা আয়ত্তে আনার জন্য এখন আমরা সামান্য শ্রম দিতে কুণ্ঠিত- এটি হওয়া উচিত নয়।
বানান নির্মেদ, গতিশীল ও বাহুল্য বর্জিত হলে জীবের মতো বাক্যও আকর্ষণীয় ও অধিক কার্যকর হয়ে উঠে। যেমন, অনেকে সংস্কৃত নিয়মানুসের কার্যকর শব্দের পরিবর্তে লিখে থাকেন ‘কার্যকরী’, কার্যকর শব্দকে কার্যকরী লেখার প্রয়োজন নেই। এটি অশুদ্ধ, যদি ইচ্ছে হয় তো কার্যকারী লেখা যায়, কার্যকরী নয়। কার্যকর ও কার্যকারী শব্দটি অভিন্ন অর্থ বহন করে। তাই কার্যকর শব্দের সঙ্গে অযথা ঈ-প্রত্যয় দিয়ে শব্দটিকে মেদবহুল করে তোলা সমীচীন নয়। অর্থকরী ফসল লেখার কী দরকার, যেখানে অর্থকর ফসল দিয়ে অর্থটা গতিশীলভাবে প্রকাশ করা যায়! এটি বাংলাকে সংস্কৃত নিয়মের বেড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলার বদেচ্ছা।
একটু সচেতন হলে আমরা অনেক বাংলা শব্দকে সংস্কৃত নিয়মের অহেতুক নিষ্পেশন থেকে মুক্ত রেখে সাবলীল ও গতিময় করে তুলতে পারি। উদাহরণস্বরূপ স্ত্রীলিঙ্গবাচক, বিশিষ্টবোধক ও বিশেষণাত্মক কিছু শব্দকে সহজে সংস্কৃত নিগড় থেকে মুক্ত রাখা যায়। সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দে সাধারণত ‘ঈ’ প্রত্যয় ও আ প্রত্যয় যুক্ত হয়। বাংলা বিশেষ্য শব্দে সংস্কৃতির অনুরূপ রীতিতে অযথা ‘ঈ’ বা প্রত্যয় যোগ করে বিশেষণে পরিণতকরণ ¯্রফে অপ্রয়োজনীয়। সংস্কৃত বাংলা নয়, এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাষা। আবার বাংলা সংস্কৃত হতে উদ্ভুত বলে পুরোপুরি সংস্কৃতি প্রভাবমুক্তও নয়। তাই বলে সংস্কৃতের কাছে অনবদ্য ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলা ভাষাকে সর্বক্ষেত্রে নতজানু হয়ে রাখা আদৌ সমীচীন নয়।
তারপরও সংস্কৃত রীতির প্রভাবে অনেকে বিশেষ্য ও বিশেষণ পদের সঙ্গে ‘ঈ-প্রত্যয়’ যোগ করে দেন। যেমন- অধোমুখী, বার্ষিকী, বৈশাখী, প্রকাশনী, বিবরণী, ভয়ঙ্করী, মহতী, ম-লী, শতাব্দী, সংশোধনী ইত্যাদি। এমন আচরণ শব্দকে মেদহীন ও বাক্যকে গতিহীন কর তোলে। অথচ আমরা সহজে লিখতে পারি - অধোমুখ, বার্ষিক, বৈশাখ, প্রকাশন, বিবরণ, ভয়ঙ্কর, মহত, ম-ল, শতক, সংশোধন ইত্যাদি। এ ছাড়া আরও কিছু শব্দ যেমন : অপেক্ষমাণা, ধর্ষিতা, চঞ্চলা, চয়নিকা, নিষ্ফলা, নিরুত্তরা, ভীষণা, সাহসিকা প্রভৃতি শব্দের সঙ্গে অযথা আ প্রত্যয় যুক্ত করা হয়। এমনটি সমীচীন নয়।
দুয়ের মধ্যে একের অতিশয় বোঝানোর জন্য ‘-তর’ প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন : অধিকতর, ক্ষুদ্রতর ইত্যাদি। অন্যদিকে দুইয়ের অধিকের মধ্যে একের অতিশয় বোঝাতে ‘-তম’ ও ইষ্ঠ প্রত্যয় যুক্ত করা হয়। যেমন : অধিকতম, ক্ষুদ্রতম, লঘিষ্ঠ, কনিষ্ঠ ইত্যাদি। সংস্কৃত ব্যাকরণে উৎকর্ষের পর আরও উৎকর্ষ বোঝালে ‘ইষ্ঠ’ ও ‘ঈয়সু’ প্রত্যয়ান্ত শব্দের পরেও তর ও তম হতে পারে। যেমন: শ্রেষ্ঠতম, কনিষ্ঠতম ইত্যাদি। আধুনিক প্রমিত বানানে এমন শব্দ ব্যবহার করা বিধেয় নয়। সর্বশ্রেষ্ঠ বা সর্বকনিষ্ঠ লিখুন।
ভাষা পরিবর্তনশীল। চর্যাপদ হতে আধুনিক বাংলা ভাষার দিকে তাকালে এ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। আমরা ভাষার পরিবর্তনের বিপক্ষে নই। তবে তা হবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের মতো সাবলীল, ভালবাসার মতো মোহনীয়, গ্রহণের মতো মুগ্ধকর। কখনও কোন অবস্থাতেই স্বেচ্ছাচারমূলক নয়। প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ করে হয়তো সাময়িক উপকার পাওয়া যায় কিন্তু তা কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই আমাদের উচিত ভাষা-নদীকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেওয়া। স্বাভাবিকতার মাঝে যে পরিবর্তন আসবে তা সানন্দে ভাষাভাষীর অন্তরে স্থান করে নেবে। কিন্তু সহজ করার অজুহাতে ভাষা নদীর গতি জোরপূর্বক অন্যদিকে বাহিত করার চেষ্টা করা কখনও উচিত নয়।
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৬
অভিধান কী এবং কেন / ড. মোহাম্মদ আমীন
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুন