ব্যক্তির পরিচয়টাই নাম।
এ জন্য অনেক সময় জনপ্রিয়তাকে নামপ্রিয়তা হিসাবে ব্যবহার হতে দেখা যায়।
লোকটি খুব জনপ্রিয়Ñ এ বাক্যটির অর্থ হতে পারে : লোকটি খুব সুনামের অধিকারী।
ব্যক্তি ছাড়াও ব্যক্তি-সমষ্টি, প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য যে কোনও কিছুর নাম থাকতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগর, পৃথিবী, সূর্য, ঢাকা, বাংলা একাডেমি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ইত্যাদি। ব্যক্তির মতো এরাও জনপ্রিয়তা নামক অদৃশ্য প্রত্যয়ের আনন্দ উপভোগ করে।
এ অর্থে এরাও এক রকম ব্যক্তি।
আইনও তা বলে।
স্বাভাবিক পরিচিতি নিশ্চিত করার জন্য জন্মের পর যে শব্দে ডাকা হয় সেটি সাধারণ নাম। সাধারণ নাম ছাড়াও একজন ব্যক্তির অনেকগুলো পরিচয় থাকে। সুনাম বা দুর্নাম যত বিস্তৃত হয় নামের সংখ্যাও তত বেড়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ একজন কবি, একজন সাহিত্যিক, একজন ঔপন্যাসিক, একজন দার্শনিক, একজন নোবেল বিজয়ী, একজন ভারতীয়, একজন গায়ক, একজন্য নাট্যকার, একজন পটুয়া- - - এভাবে অনেকগুলো, বলা যায় অসংখ্য প্রত্যয়ে তাঁকে অভিষিক্ত করা যায়।
কর্মের সাথে নামের সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পক যেমন গভীর ও একমুখী-গাণিতিক তেমন আবার হতে পারে পুরো উল্টো।
কর্ম ব্যক্তির পরিচয়কে যথাযথভাবে পরিস্ফূট করে। হিটলার এবং মাদার তেরেসা নাম দুটো দিয়ে যথাক্রমে হিংস্রতা ও মানবতা প্রকাশ করা যায়। মিরজাফর নাম তো এখন একটি দোষ হিসাবে আখ্যায়িত। কয়জনই বা জানেন একজন ব্যক্তির নাম হতে মিরজাফর শব্দটির উৎপত্তি! অথচ সবাই জানেন মিরজাফর একটি ঘৃণ্য শব্দ, এর অর্থ প্রতারক, ষড়যন্ত্রকারী, নিকৃষ্ট ব্যক্তি, বিবেকহীন, নরপিশাচ-জাতীয় ব্যক্তি প্রভৃতি।
জনপ্রিয়তা ব্যক্তিকে না কি ব্যক্তির নামকে ঘিরে আবর্তিত সেটি নিয়ে সুক্ষè বিতর্ক রয়েছে। তবে ব্যক্তির উপর জনপ্রিয়তা বিশেষণটি আরোপ হলে নামের প্রসার ঘটে। ব্যক্তির আগে যখন নাম ছুটতে শুরু করে তখন শুরু হয় জনপ্রিয়তা অর্জনের বা জনপ্রিয়তা বর্জনের পালা। ব্যক্তির আগে ব্যক্তির নাম যত দ্রুত ছুটতে পারে ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বা জন-অপ্রিয়তা যথাক্রমে তত দ্রুত বাড়ে বা কমে।
ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে নামের পরিচিতি ঘটে সাধারণ মানুষের। ব্যক্তির আগে নামের পরিচিতি ঘটাতে না পারলে প্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা আসে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বচক্ষে দেখেছেন এমন লোকের চেয়ে কখনও দেখেননি এমন লোকের সংখ্যা অনেক বেশি। তবু তিনি অসংখ্য লোকের কাছে পরিচিত। তাঁর পরিচিতি ব্যক্তিগত নামক গ-িকে ছড়িয়ে যেতে পেরেছে। যিনি ব্যক্তিগত প্রকাশের চেয়ে নামের মাধ্যমে সর্বাধিক ও দ্রুত পরিচিত, মোটকথা তিনি তত বেশি জনপ্রিয়। যখন ব্যক্তিগত পরিচিতের সঙ্গে নামের পরিচয় বেশি হয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে জনপ্রিয়তা অর্জিত হচ্ছে। অবশ্য একই কথা দুর্নামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
লোকে বলে- কাল হয়েছে গত, কালের মুখে মোত।
জনপ্রিয়তা বলে, কাল হয়েছে গত, আসবে শত শত। জনপ্রিয়তার কাছে শত শত কাল ব্যক্তি চির বর্তমান হয়ে থাকে। মোজেসের কথা বলা যায়। তিনি তার জীবনকালে তেমন জনপ্রিয় ছিলেন না। এখন ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলমান সবার কাছে তিনি প্রিয়। জনপ্রিয়তা বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎÑ এ তিনটি সময়জ্ঞাপক শব্দকে একাকার করে দেয়।
যে ব্যক্তির নাম নিজ বিদ্যমানতার চেয়ে বেশি আগে ছুটে সে ব্যক্তি তত বেশি জনপ্রিয়। যার নাম ব্যক্তির অনেক পিছন হতে দৌড় শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত ক্রমশ বিস্তৃত সে ব্যক্তির জনপ্রিয়তা তত বেশি স্থায়ী, তত বেশি ব্যাপক।
তবে স্থায়িত্ব আর ব্যাপকতা এক নয়।
প্ল্যাটো খ্রিস্টপূর্ব ৪২৭ অব্দে জন্মগ্রহণ করেছেন। এখনও তিনি জনপ্রিয়। অনেক পিছন হতে শুরু করে এখনও তার নাম বর্তমান, এটি তার জনপ্রিয়তার স্থায়িত্বের পরিচায়ক।
কোনও ব্যক্তির নাম ব্যাপক হলে যে স্থায়ী হবে আবার স্থায়ী হলে যে ব্যাপক হবে তা সবসময় ঠিক না। নিউটনের জনপ্রিয়তা যত স্থায়ী তত ব্যাপক নয়। শিক্ষিত লোকের মধ্যে তার নাম সীমাবদ্ধ। আবার নাম ব্যাপক হলে যে স্থায়ী হবে তাও ঠিক নয়।
অমর্র্ত্য সেনের চেয়ে শাহরুখের খানের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। কিন্তু শাহরুখের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হলেও তা অমর্ত্য সেনের তুলনায় অনেক কম স্থায়ী। হুমায়ুন আহমেদের চেয়ে আহমদ ছফার জনপ্রিয়তা কম কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয়তা মৃত্যুর পর অনেক কমে গেছে কিন্তু আহমদ ছফার জনপ্রিয়তা গেছে বেড়ে।
সভার পরিচিতি পর্বে প্রায় দেখা যায় সংজ্ঞা বিভ্রাট।
মানুষ সাধারণত পরিচয় দেন আমিত্বে।
আমি অনুসিন্থিয়া, আমি আলিম, আমি জাফর ইত্যাদি।
এ উত্তর ঠিক নয়।
আমি অনুসিন্থিয়া নই, আমার নাম অনুসিন্থিয়া।
ব্যক্তি কখনও নাম হতে পারে না। অথচ আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষিত লোক ব্যক্তিকে নামে পরিণত করে দেন। অনুষ্ঠানে লম্বা গলায় পরিচয় দেন- আমি রিজিয়া, আমি রহমান। অথচ আপনি তা নন।
আমি মানুষ, আমি পুরুষ, আমি ডাক্তার, আমি একজনের স্বামী, আমি একজন বাংলাদেশি, আমি একজন যুবক, আমি একজন ভদ্রলোক- এ রকম হাজার হাজার, লাখ লাখ বলা যায়। তাই এভাবে আমি দিয়ে নিজের নাম প্রকাশ করে পরিচয় দিতে যাওয়া শুধু বোকামি নয়, অজ্ঞতাও বটে।সুতরাং যারা বলেন আমি জাফর, তারা কিন্তু ভুল নয় মিথ্যাও বলেন।
বলতে হবে আমার নাম জাফর, আমার নাম কামাল, আমার নাম ইরন।
নাম কী জন্য?
পশু আর মানুষের চারিত্রিক তফাৎ দিতে গেলে এটি প্রথমেই লিখতে হবে।
মানুষ জনপ্রিয়তার জন্য পাগল, পশুতে এ বোধ নেই। খাদ্য মানুষের দৈহিক আহার, সংস্কৃতি মনের আর প্রশংসা পরিচিতির আহার।
খাদ্য যত ভালো হয়, দেহ তত পুষ্ট হয়। সংস্কৃতি যেখানে উন্নত, মন সেখানে প্রফুল্ল। গুণাবলী যেখানে প্রবল সুনাম সেখানে জ্বলজ্বল। সুনাম অর্জনের পূর্বে গুণাবলী অর্জন আবশ্যক। কারণ গুণাবলী জনপ্রিয়তার পুষ্টি। তবে জনপ্রিয়তা আর পরিচিতি এক নয়। সব জনপ্রিয়তা পরিচিতি সব পরিচিতি জনপ্রিয়তা নয়। জনের সঙ্গে প্রিয় পরিচিতি হচ্ছে জনপ্রিয়তা। এখানে মানুষ ব্যক্তিকে কল্যাণকর চেতনায় গ্রহণ করে। পরিচিতির ক্ষেত্রে অকল্যাণকর পরিচিতিও হতে পারে। যেমন হিটলার, মীরজাফর, মুসোলিনি ইত্যাদি নাম অকল্যাণকর হিসেবে চিহ্নিত। তবে যথেষ্ট পরিচিত। এ পরিচিত কিন্তু জনপ্রিয়তা নয় বরং উল্টো।
আবার জনপ্রিয় ব্যক্তি যে সবসময় মানব সমাজের সর্বজনীন অনুকূল হবে তা নয়। ধর্ম প্রচারকেরা সংশ্লিষ্ট অনুসারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় তবে তাদের নিঃñিদ্র অনুসরণ মানব সমাজের বিকাশের অনুকূল ছিলÑ এমন কোনও তথ্য আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এক ধর্মাবলম্বী অন্য ধর্মের প্রচারককে নিকৃষ্ট হিসেবে ঘৃণা করে। নিজেদের ছাড়া অন্য সব বাতিল করে দেয়। এক ধর্মের অনুসারীরা দিব্যি ফুলকে অন্য ধর্মের গ্রন্থকে অবমাননা করে।
জনপ্রিয়তার সুফলভোগী কে?
দেহ ও মন দুটোই জনপ্রিয়তার সুফলভোগী।
মানগত ও পরিমাণগত দিক দিয়েও জনপ্রিয়তাকে ভাগ করা যায়।
হুমায়ুন আহমদের উপন্যাস একটি শ্রেণির লোকের কাছে বেশ জনপ্রিয় কিন্তু সাহিত্যমান শুন্য। আবার এমন অনেক লেখক আছেন যাদের লেখা জনপ্রিয় নয় কিন্তু সাহিত্যমানে প্রবল।
মোটা চাল বাজারে বেশি বিক্রি হয়, সরু চাল কম। তার মানে মোটা চালের চেয়ে সুরু চালের কদর কম তা নয়। সরু চাল ভোগের যোগ্য লোকের অভাবই সরু চাল কম বিক্রির কারণ। তেমনি বলা যায় হুমায়ুন আহমেদের বই নিয়ে। এটি অনেকটা মোট চালের মতো সস্তা।
জনপ্রিয় হলে গুণগত মান বেশি লাগবে তা-ও সবসময় সত্য নয়। বরং অনেক সময় গুণগত মান জনপ্রিয়তাকে কমিয়ে দেয়। কারণ মানসম্মত কাজের জন্য মানসম্মত ভোক্তা প্রয়োজন। তাই তো আহমদ ছফার চেয়ে হুমায়ুন আহমদ জনপ্রিয়। কথা সাহিত্যিক শাহেদুল হককে কয়জনই বা চেনেন।
গণতান্ত্রিক জনপ্রিয়তা আর গুণতান্ত্রিক জনপ্রিয়তার মাধ্যেও বেশ পার্থক্য রয়েছে। গণতন্ত্রে জনপ্রিয়তার পরিমাপ শুধু পরিমাণগত। কিন্তু গুণতান্ত্রিক জনপ্রিয়তায় পরিামাপের প্রধান বিবেচ্য কোয়ালিটি, এখানে পরিমাণ অবশ্যই গ্রাহ্য কোনও প্রত্যয় নয়।
জনপ্রিয়তা অর্জনের অনেক কৌশল আছে। তন্মধ্যে ব্যতিক্রম সবচেয়ে সহজ উপায়।
ব্যতিক্রমই মানুষকে বেশি আকর্ষণ করে। তাই জনপ্রিয়তাকাক্সক্ষীরা লক্ষ্যে যেতে ব্যতিক্রম নামক বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেয়। এটি মিডিয়াকেও আকর্ষণ করে।
আবার মিডিয়ার সঙ্গে রয়েছে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। মানুষ যেখানে মিডিয়াও সেখানে। মিডিয়া মানুষের গোলাম। সত্য সেখানে কোন ফ্যাক্টর নয়।
এজন্য মিডিয়া গুজব দ্বারা সহজে প্রভাবিত হয়। একটা দেশের সংবাদপত্র দ্বারা সে দেশের মানুষের মান খুব সহজে অনুধাবন করা যায়।
পরিচিতির দুটি রূপ; একটি সুনাম অন্যটি দুর্নাম। সুনাম কাক্সিক্ষত তবে র্দুনামটাই মানুষকে অধিক আপ্লুত করে, আকর্ষণীয় রসনায় উদ্বেল করে। মিডিয়াগুলোতে কারও দুর্নাম প্রকাশ পেলে জনগণ ঝুকে পড়ে। এমনভাবে পড়ে যেন বহুদিন পর সুন্দরী প্রেমিকা আবার ফিরে এসেছে। সুনাম সংক্রান্ত সংবাদ পাঠকের কাছে তেমন পাত্তা পায় না। এটি স্বামীর কাছে স্ত্রীর ন্যায় কিংবা স্ত্রীর কাছে স্বামীর ন্যায় বিরক্তিকর একটি পৃষ্ঠা। এমন বিষয় কেউ আগ্রহে নিতে চায় না। তাই সংবাদপত্রও কারও সুনাম প্রকাশে তত আগ্রহ দেখায় না। এজন্য বলা হয় দুর্নাম বাতাসের আগে ছোটে।
ব্যক্তি মরে যায়, জনপ্রিয়তা মরে না। ব্যক্তি মরে গেলে আত্মা মরে যায়। চিন্তা-চেতনা সবকিছু বিনাশ হয়ে যায়। কিন্তু জনপ্রিয়তা থেকে যায়। আত্মাকে বাঁচতে হলে শরীরের আশ্রয় নিতে হয়। কিন্তু জনপ্রিয়তার জন্য শরীরের প্রয়োজন নেই, মনও নি®প্রয়োজন। এমনকি অস্তিত্বেরও প্রয়োজন নেই। ভূত, আত্মা, ঈশ্বর, পৌরাণিক কাহিনী প্রভৃতি অস্তিত্বহীন হলেও জনপ্রিয়তা বা জন-অপ্রিয়তায় চরম শক্তিশালী।
তাই জনপ্রিয়তা আত্মার চেয়েও প্রবল একটি অধ্যায়।
মোজেস মারা গিয়েছেন খ্রিস্টপূর্ব ১২৩৭ অব্দে। এখনও তিনি প্রবল জনপ্রিয়। দিন দিন তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
তাই জনপ্রিয় হবার জন্য অস্তিত্বের প্রয়োজন না-ও হতে পারে। অস্তিত্বহীন বিষয়ও জনপ্রিয় হতে পারে। বরং ঠিকমতো উপস্থাপন করতে পারলে অস্তিত্বহীন বিষয়ের জনপ্রিয়তা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কারণ মানুষ পরিচিত কাউকে সহজে জনপ্রিয় করে দিতে হীনম্মন্যতায় ভোগে। তাই হাতের চেয়ে কবরে ফুলের তোড়া বেশি যায়; জীবিত লেখকের চেয়ে মৃত লেখকের বই বেশি বিক্রি হয়।
ভূতের অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ভূত কত জনপ্রিয়।
সত্যাশ্রয়ী জ্ঞানীরা বলেন ঈশ্বরের অস্তিত্বও ভূতের মতো।
তবু ঈশ্বর কত জনপ্রিয়।
বিশ্বসাহিত্যে নাটক-উপন্যাসে এমন অনেক অলিক চরিত্র আছে যারা কখনও প্রকৃতপক্ষে শরীর ধারণ না করেও প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
সত্যাশ্রয়ীদের কাছে ধর্ম লৌকিক উপখ্যান মাত্র।
কিন্তু অনুসারীদের কাছে বাস্তব, কঠোর সত্য।
জনপ্রিয়তা আপেক্ষিক শব্দ।
এর সর্বজনীনতা খুব একটা চোখে পড়ে না। মুহাম্মদ মুসলমানগণের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার কিন্তু ইহুদি খ্রিস্টানদের কাছে নয়। রাজনীতিক নেতাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এক দলের নেতারা অন্যদলের নেতৃবৃন্দকে ঘৃণার চোখে দেকে ঠিক ধমের মতো।
কারণ ধর্ম ও রাজনীতি উভয়ের উদ্দেশ্য পার্থিব সম্পদে নিজেকে ভারী করে তোলা। ধর্মে রহস্যময়তার পরিমাণ রাজনীতির চেয়ে বেশি।
ধর্মে জোর জবরদস্তি আছে, রাজনীতিতে যার পরিমাণ ধর্মের চেয়ে অনেক কম। রাজনীতি বিপক্ষদলকে পার্থিব বঞ্চনায় ভীত করে তুলতে চায় কিন্তু ধর্মে বিধর্মীদের ভীত করে তুলতে চায় মারা যাওয়ার পর নৃশংস শাস্তির ভয় দেখিয়ে।