উলুবনে মুক্তো
=======
২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের ঘটনা। আমি তথন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। আমার লেখা সদ্যপ্রকাশিত ‘অফিস আদালতে বাংলা লেখার নিয়ম’ গ্রন্থটা
নিয়ে মন্ত্রণালয়ে সচিবপদে সদ্য যোগদানকারী জনাব শফিকুল আযমকে দিতে যাই। এর আগে মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, গায়ক ও রবীন্দ্র গবেষক
অফিস কক্ষে তিনি একা। আরাম করে চেয়ারে হেলান দিয়ে সিগারেট টানছেন। সালাম দিয়ে বললাম : কেমন আছেন স্যার?
কোনো কিছু না বলে তিনি নথিতে চোখ দেন। মনটা খারাপ হয়ে যায়।
ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম হলে গভীর স্নেহে বলতেন : বসো, বাসো।এতক্ষণ পরে এলে? কোথায় ছিলে?
বসব না দাঁড়িয়ে থাকব ভাবছিলম। মনটা রবাহূতের মতো খচ খচ করছে। চোখে বালি পড়লে এমন লাগে।কিছুক্ষণ পর জনাব শফিকুল আযম চোখ তুলে বললেন :
কিছু বলবেন?
আমি বইটা তার দিয়ে এগিয়ে দিয়ে
বললাম : আমার লেখা বই, গতকাল প্রকাশিত হয়েছে।
ভালো।
আমি তাকে বইটা তার দিকে হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আরও এগিয়ে যাই। আমার কাণ্ড দেখে তিনি ঈর্ষা আর ঘৃণায় মুখটাকে বিকৃত করে সিগারেটে টান দিতে দিতে বললেন : আমি বই পড়ি এটা আপনাকে কে বলেছে?
তার প্রশ্নে আমি বিমূঢ়।
এর কোনো জবাব নেই। তিনি বই পড়েন, এটা আমাকে কেউ বলেননি। পড়েন না,
এটাও বলেননি। কিন্তু বই না পড়ে কী সচিব হওয়া যায়? আরও অনেক সচিবকে বই দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও দিয়েছি, মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও দিয়েছি। তারা তো এমন বলেননি! মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ বই পেয়ে গভীর মনযোগের সঙ্গে আধঘণ্টা পড়ে বলেছিলেন : চমৎকার। বইটা সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলা বানানের সীমাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কাজ দেবে। আমি তাঁর মন্তব্য শুনে পুলকিত হয়ে উঠেছিলাম।
সাধারণত লেখকরা নতুন কোনো বই প্রকাশ হলে কয়েকজনকে উপহার দেন। আমিও দিই। অফিসের সিনিয়র বস হিসাবে সচিব সবার আগে। তাই তার জন্য একটা বই এনেছিলাম। কিন্তু জবাব শুনে লজ্জায় আমার চেয়ে হাতের বইটা আরও বেশি কাঁপছিল।
লেখাগুলো যেন তীরের মতো পাতা হতে ছুটে যেতে চাইছে।
এবার জনাব শফিকুল আযম সাহেবের অফিস কক্ষের চারিদিকে তাকিয়ে আমি হতবাক। মনে হয় নতুন কোনো এক অনুর্বর মরুভূমি। রুমে অনেকগুলো আলমারি ও তাক। ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম সাহেবের সময় আলমিরাগুলো বইপত্রে
ভর্তি ছিল। এখন সেখানে শূন্যতার হাহাকার। সব বইপত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একটা
আলমিরার এক কোণে পাথরের কয়েকটা ক্রেস্ট। বাকি সবগুলো আলমারি শূন্য। ভূঁইয়া
সাহেবের টেবিলে শোভা পেত দেশি-বিদেশি নানা বই। আলোচনা হতো কাজের ফাঁকে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে।
![]() |
| ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম ও লেখক |
টেবিলে কোনো বইপত্র নেই। সিগারেটের দুটো প্যাকেট, একটি ম্যাচ এবং কয়েকটা ফাইল।
আলমারি আর টেবিলে বইপত্রের শূন্যতা দেখে
মনে হচ্ছিল, এ কক্ষে আমি আগে আর কোনোদিন আসিনি। অথচ ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম সাহেব
থাকাকালীন প্রতিদিন অন্তত একবার এসেছি। আসতে হয়েছে। না-এলে ডেকে এনেছেন। আলাপ হয়েছে কবিতার, সাহিত্যের, দেশের, উন্নয়নের এবং মানুষের।
বই জ্ঞানের বাহন। বইশূন্য ঘর প্রাণহীন জীবের মতো অসাড় এবং ক্রমশ গন্ধময় হাওয়া। আমার নাকে এসে তেমন দুর্গন্ধ আঘাত করতে শুরু করে। আলমারির শূন্যতা দেখে নিজেকে বড় অসহায় লাগছিল। এখান থেকে কত বই নিয়ে পড়েছি। ইস, কেন বইটা আনলাম!
যদিও জনাব শফিকুল আযমের মতো ব্যবহার আর কোনো সচিবের নিকট থেকে পাইনি। তবু এরপর থেকে কাউকে বই উপহার দেওয়ার আগে পঞ্চাশ বার চিন্তা করব।
আলমারির মতো জনব শফিকুল আযম সাহেবের মাথাও হয়তো শূন্য। এজন্য অফিসে ধূমপান নিষেধ সত্ত্বেও দিব্যি সিগারেট টেনে যাচ্ছিলেন। বই পড়লে জানতে পারতেন- অফিস কক্ষে ধূমপান শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বসলাম না আর।
বইটা নিয়ে চলে এলাম নিজের রুমে।
উলুবনে মুক্তো ছড়ানোর চেয়ে নিজের গালে নিজে দুটো থাপ্পর খাওয়া অনেক ভালো।গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন, মাতৃভাষা জ্ঞান, প্রাত্যহিক প্রয়োজন, শুদ্ধ বানান চর্চা এবং বিসিএস-সহ যে-কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি লিংক :
শুবাচ লিংক
নাটোর জেলার নামকরণ
চকরিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
মানিকগঞ্জ জেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য
হাতিয়া উপজেলার নামকরণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য
পটুয়াখালী আগুনমুখা নদীর নামকরণ
ভেদরগঞ্জ উপজেলা ও ইউনিয়নসমূহের নামকরণ
শুবাচ লিংক
নাটোর জেলার নামকরণ
চকরিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য
মানিকগঞ্জ জেলার নামকরণ ও ঐতিহ্য
হাতিয়া উপজেলার নামকরণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য
পটুয়াখালী আগুনমুখা নদীর নামকরণ
ভেদরগঞ্জ উপজেলা ও ইউনিয়নসমূহের নামকরণ










